ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদ-নদী

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদ-নদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদ-নদী:-

তিতাস, মেঘনা, আউলিয়াজুরী, কালাছড়ি, খাস্তি, ছিনাইহানি, ডোলভাঙ্গা, পাগলা, পুটিয়া, বলভদ্র, বলাক, বালিয়াজুড়ি, বালুয়া, বিজনা, বুড়ি, বেমালিয়া, মধ্যগঙ্গা, রোপা, লংঘুন, লাহুর, সোনাই, হাওড়া, হুরুল প্রভৃতি ।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদ-নদী
সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু – ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

 

তিতাস নদী

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে প্রবাহমান নদীবিশেষ । বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমানা সংশ্লিষ্ট নদী হিসেবে এটি পরিচিত । নদীটির উৎপত্তি হয়েছে ভারতের অঙ্গরাজ্য ত্রিপুরায় । সেখানে বাংলা ভাষায় হাওড়া নদী এবং স্থানীয় কোকবোরোক ভাষায় সাঈদ্রা নদী নামে তিতাস নদীর নামকরণ করা হয়েছে । কিন্তু বাংলাদেশে ঐ নদীটি তিতাস-নদী হিসেবে পরিচিতি ।

 

উৎপত্তি

ভারতীয় অঙ্গরাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার কাছাকাছি প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা দিয়ে নদীটি প্রবেশ করে শাহবাজপুর টাউন অঞ্চলের সীমানা ঘেঁষে এটি আরো দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে ভৈরব-আশুগঞ্জের সীমানা ঘেঁষে বহমান অন্যতম বৃহৎ নদী মেঘনার সাথে একীভূত হয়ে যায় তিতাস-নদীটি । তিতাসের গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার ।

তিতাস ও মেঘনা নদীকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল রাষ্ট্র বাংলাদেশে অনেক উপকথা প্রচলিত আছে । তন্মধ্যে একটি উপকথায় বলা হয়েছে যে, তিতাস-নদী মেঘনার কন্যা বা মেয়ে ।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদ-নদী
গঙ্গাসাগর দিঘী – ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

 

তিতাস নদীর উপকূলে প্রাপ্ত গ্যাসক্ষেত্রটি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র নামে পরিচিত । এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম । গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস উৎপাদনকারী ক্ষেত্র হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি আবিষ্কার করেছিল ।

২০০০ সাল পর্যন্ত এখানে ১৪টি কূপ খনন করা হয়েছে । প্রায় ৬৪ বর্গ কিলোমিটার ব্যাপী বিস্তৃত এই গ্যাসক্ষেত্রটির ভূ-গঠন গম্বুজ প্রকৃতির । তিতাস নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস ও তাদের জীবন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তিতাস একটি নদীর নাম শিরোনামে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় উপন্যাস রচনা করেছেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ । পরবর্তীকালে তিতাস একটি নদীর নাম শিরোনামে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্মিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ।

২ thoughts on “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদ-নদী”

Leave a Comment