আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভৌগলিক পরিচিতি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভৌগলিক পরিচিতি:-
ভৌগলিক পরিচয়: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভৌগলিক অবস্থান বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে। আদিকাল থেকে নদ-নদী অধ্যুষিত ভাটীরাজ্য বলেই পরিচিত। স্রোতস্বিনী মেঘনা অববাহিকায় কালীদহ সায়রের পলি ও বালি সঞ্চিত নীচুভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ অঞ্চল। তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলে কিছু উঁচু ভূমির নিদর্শণ রয়েছে।
পাহাড়ি টিলার লালমাটি আদি স্থলভূমি ও জনপদের প্রমাণ বহন করে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ পূর্বাংশের অধিকাংশ এলাকা এখনো বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়ে থাকে। মেঘনা, তিতাস, সালদা, হাওড়া, বুড়ি ও লোহুর নদী বষার্কালে এখনো উপচে উঠে। প্রাচীন কাল থেকে সরাইল, হরষপুর, সুলতানপুর, কসবা ও নবীনগরের কিয়দংশ দ্বীপাঞ্চলের মতো বাস উপযোগী ছিল বলে ধারণা করা হয়।

সময়ান্তরে ব্যাপক ভৌগোলিক বিবর্তন ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহুলাংশ এখণ জন-বসতির উপযোগী সমতলভূমি। তবে আদিতে এ অঞ্চলের অবস্থা কেমন ছিল তার পুরো চিত্র এখন আর কল্পনা করা যায় না। ত্রিপুরার পার্বত্য ভূমির প্রান্তে মেঘনার বুকে জেগে উঠা চরের অবস্থানেই আদি সমতটরাজ্য গড়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা হয়।
সীমানা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। দক্ষিণে কুমিল্লা জেলা, পশ্চিমে নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলা এবং উত্তরে সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার অবস্থান।
অবস্থান: ৯০°৩৯‘ থেকে ৯১°২১‘ পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ২৩°২৯‘ থেকে ২৪°১৬‘ উত্তর অক্ষাংশ ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অবদান অনেক। আবদুল কুদ্দুস মাখনের মত ব্যক্তিরা এখানে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সান্ধ্য আইন জারি করা হয় এবং এদিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণ সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন ।
২৭ মার্চ সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়োজিত চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার কর্নেল শাফায়াত জামিল বীর বিক্রম তার সাথের বাঙালি সেনাদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর্মি ক্যাম্পের সকল পাকিস্তানি অফিসার ও সৈন্যকে বন্দি করেন। ঐদিন দুপুরে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম মৌলভীবাজারের শমসেরনগর হতে তার সেনাদল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন এবং কর্নেল শাফায়াত জামিল তার কাছে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোম্পানির দায়িত্ব অর্পণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে আখাউড়ার দরুইন গ্রামে শহীদ হন । ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে এস ফোর্সের অধিনায়ক তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধ হয়।
ঐ যুদ্ধে দুজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এবং ১১ জন আহত হন । পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৫ জন নিহত ও ১৪ জন বন্দী হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে গড়ে তোলা হয়েছে কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ। এখানে ৫০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে।
১ thought on “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভৌগলিক পরিচিতি”